মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ভাষা ও সংস্কৃতি

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান এবং এই ইউনিয়নের মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে।বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত ফাঁসিয়াখালী চকরিয়া উপজেলাকে ঘিরে রয়েছে এ জেলার সদর পেকুয়া, মহেশখালী এবং রামু উপজেলা; বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা এবং চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া ও বাঁশখালী উপজেলা। কক্সবাজার জেলার অন্যান্য উপজেলার ন্যায় এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার চেয়ে তুলনামূলকভাবে ভিন্নতর। চকরিয়ার মূল আদিবাসী কাষ্ঠ যুগের গোলমাথা বিশিষ্ট জনগোষ্ঠী। চীন, বার্মা ও তিব্বত থেকে ৫০ হাজার বছর আগে তাদের কিছু জনগোষ্ঠী চকরিয়ায় এসে স্থায়ী নিবাস গড়ে তুলেছিল। মেডিটেরিয়ান দ্রাবিড়দের চকরিয়ায় আগমনের বিষয়টিও ইতিহাসবিদদের বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে। এছাড়াও ছোট মাথাবিশিষ্ট মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠী বার্মা হয়ে আরাকান, চকরিয়া এবং চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে বলেও ইতিহাসে যথেষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান।

 

জাতিগোষ্ঠীর এরূপ বৈচিত্র্যময়তার কারণে চকরিয়ার ভাষা ও সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং বহুমাত্রিক। এ উপজেলায় মুসলমান, হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে রাখাইন, মগ, চাকমা, লুসাই, বড়ুয়া ইত্যাদি উপজাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থান বিদ্যমান। আরাকান অঞ্চলের নৃ-গোষ্ঠীর বিদ্যমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রভাব এবং বিভিন্ন আদিবাসী ও জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থান থাকার ফলে চকরিয়ার মানুষের মুখের ভাষা তেমন প্রাঞ্জল নয়। চকরিয়ায় ব্যবহৃত ভাষার ধ্বনি প্রকৃতি এবং শাব্দিক উচ্চারণ প্রক্রিয়ায় ‘ভোট চিনা’র প্রভাব লক্ষণীয়।বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় কিংবা অ-উপকূলীয় বা অন্যান্য সমতল এলাকাগুলোর চেয়ে চকরিয়া উপজেলার ব্যাপক স্বাতন্ত্র্য বিদ্যমান। চকরিয়ার একদিকে পাহাড় অন্যদিকে সমুদ্র, মাছ, চিংড়ি, লবণ, ঘন বনাঞ্চল এবং উর্বর ভূমি প্রভৃতি প্রাকৃতিক উপযোগিতার উপস্থিতি চকরিয়ার মানুষের আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

 

তবে এ কথা সত্য যে, চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালীর মানুষের ভাষা-সংস্কৃতি বহুমাত্রিক এবং ইতিহাসের দিকে থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ উপজেলার ভাষা-সংস্কৃতি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন গবেষণা পরিচালিত হয় নি। উদাহরণ স্বরূপ কিছু ভাষা ও সংষ্কৃতি নিম্নে তুলে ধরা হলঃ

ভাষাঃ

১। বাতাস= বয়ার

২। ভাল আছ= গম আছ

৩। গাছের গোড়ালি বিশেষ= গুইট্যা

৪। কোথায়= কড়ে

৫। বুড়ো লোক= বুজ্যা

সংস্কৃতিঃ
১। মেহমান বেড়াতে আসলে তাদের চা, পান খাওয়ানো ।

২। আমাদের স্থানীয় ভাষায় গান করা।

৩। খুছতি খেলা।

৪। মেয়েরা শাড়ি ও ছেলেরা লুঙ্গি পড়া।

৫। সকালে পান্তা ভাত খাওয়া।

ছবি



Share with :
Facebook Twitter